লাখাই উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃতিসন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সাবেক পুলিশ পরিদর্শক অমরেন্দ্র লাল রায়মারাগেছেন। শনিবার (৪মে) ভোর ৫ ঘটিকায় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগকরেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি স্ত্রীসহ ২ ছেলে, ২ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, ঐদিন বিকাল ৪ঘঠিকায় ঐ বীর মুক্তিযুদ্ধার নিজবাড়ীতে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদাসুলতানার উপস্থিতিতে লাখাই থানার ওসি আবুল খায়েরের নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পুলিশের একটি চৌকস দল গার্ড অব অনারদেয়। তারপর এ মুক্তিযোদ্ধার প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে পারিবারিক শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। তারমৃত্যুতেকৃষ্ণপুর গ্রামে নেমেছে শোকের ছায়া । গার্ড অব অনার কালে উপস্থিত ছিলেন:- লাখাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চেয়ারম্যানমুশফিউল আলম আজাদ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেকসভাপতি মাহফুজুল আলম, ইউনিয়ন পরিষদ
চেয়ারম্যান আরিফ আহাম্মদ রুপন, আবুল কাশেম মোল্লা ফয়সল, বীর মুক্তিযোদ্ধা কেশব চন্দ্র রায় সাংবাদিক আশীষদাশগুপ্তসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা অমরেন্দ্র লাল রায় লাখাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেআসছিলেন, পূর্বে তিনি অবসরপ্রাপ্ত সাবেক পুলিশ পরিদর্শক ছিলেন। তার নিজগ্রাম কৃষ্ণপুরে ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্ব মাসেকৃষ্ণপুর গণহত্যা সংঘটিত হয়, এসময় ১২৭ জন নারী পুরুষকে একলাইনে দাড় করিয়ে ব্রাশফায়ার এবং মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণমানুষকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেছিল পাকিস্তান রাজাকার বাহিনীর দল। এদিনটিকে স্মরণীয় করতে এবীর মুক্তিযুদ্ধার নেতৃত্বে গ্রামবাসীর আর্থিক সহযোগীতায় কৃষ্ণপুর বধ্যভূমি নির্মান করা হয়, পরবর্তীতে প্রতিবছর তার নেতৃত্বে১৮ই সেপ্টেম্বর কৃষ্পুর গণহত্যা দিবস পালন করা হতো।
১২৭ জন নারীপুরুষকে শহিদ মুক্তিযুদ্ধা, বুদ্ধিজীবীর স্বীকৃতি ও দিবসটিকে সরকারিভাবে স্বীকৃতির জন্য কাজ করে যাচ্ছিলেনতিনি।