শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় অবস্থিত তানযীলুল কুরআন ওয়াস – সুন্নাহ মডেল মাদ্রাসা। গত (১৪ আগস্ট) ছাঁদ থেকে লাফ নিয়ে আহত জুমি মারা যায় (১৭ আগস্ট) এ নিয়ে শুরু হয় বিভিন্ন গুজব । যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গুজব না ছড়ানো জন্য অনুরোধ করেন নিহত জুমির খালা।
ফেসবুকে দেয়া পোস্টটি নিছে উল্লেখ করা হলো।
শায়েস্তাগঞ্জ মহিলা মাদ্রাসার ছাদ থেকে পরে মৃত্যু হওয়া পরিবারের বক্তব্য।
সবার উদ্দেশ্য করে আমি কথা গুলো বলছি,,,ফেইসবুকে কিছু বলার মত ভাষা বা মন মানসিকতা নেই,,,গত বুধবার থেকে আজকে পর্যন্ত শায়েস্তাগঞ্জ অলিপুর গ্রামের স্বপন মিয়ার বড় বোন রোজিনা বেগমের মেয়ে ইসরাত আরা জুমিকে নিয়ে নানান রকম আলোচনা সমালোচনা চলছে,,সে তানযীলূল কোর-আন ওয়াস সুন্নাহ মডেল মাদ্রাসায় পড়ত,,,হসপিটাল থাকা অবস্থায় আমাদের কাছে অনেক ফোন আসে এই বিষয় এ কথা বলার জন্য,,, কিন্তু আমরা কারো সাথে কথা বলার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না,,কারণ আমরা আমাদের বাচ্চাকে বাচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছিলাম,,,আজকে যখন ফেইসবুকে ঢুকলাম তখন দেখলাম এই বিষয় টা নিয়ে নানা রকম মিথ্যে পোস্ট,, দয়া করে অপবাদমূলক পোস্ট কেউ করবেন না,,,এখানে লোকুচুরি,, ধামাচাপা দেয়ার মত কিছুই নেই,,আর অনেক ই দেখলাম লিখেছেন হুজুর পলাতক ছিল,,,অথচ উনি নিজে আমাদের সাথে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিলেন,,আসলে আমার অনেক কিছু বলার আছে কিন্তু আমি বলার মত ভাষা খুঁজে পাচ্ছিনা,,,সন্তান হারানোর যন্ত্রণা সহ্য করা অনেক কঠিন,,,অনেকেই আবার বলছেন আর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছি না তার কারণ আমরা নাকি টাকা খেয়ে মুখ বন্ধ করে রেখেছি,,,এই দুনিয়ায় একটা প্রানের চেয়ে কি পরিবারের কাছে টাকার মূল্য বেশি,,? আমার তো তা মনে হয়না,,আমি আমার নিজ অবস্থান থেকে বলছি,,,এইটা আপনাদের বিবেচনায় ফেললাম,,,দয়া করে বিবৃতিমুলক পোস্ট কেউ করবেন না,,এই বাচ্চার উক্তি কি জানেন,,,বাচ্চা নিজে বলেছে[ ১৪/৮ /২০২৪ তারিখ তার মা যখন তাকে মাদ্রাসায় দিয়ে আসে তখন বলেছিল যে সে আর আসবে না,,,মেয়ে যদি ভালো করে মনোযোগ দিয়ে পড়ে তখন সে আসবে,,না হলে আর আসবে না,, এই কথা বলে তার মা বাসায় আইসা পড়ে,,তার জুমি তার ওস্তাদজীর কাছে মোবাইল চায় সে ফোন দিয়ে তার মাকে বলবে সে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করবে তার মা যেনো মাদ্রাসায় গিয়ে গিয়ে তাদের দেখে আসে,,ওস্তাদজী ঘুমের টাইম দেখে তাই বলছিল পরে দিবে,,,তখন সবাই ঘুমে,,আর জুমি ছাদে যায় সে ভাবছিলো ছাদ থেকে লাফ দিয়ে সে দৌড়ে মাকে এসে বলবে মা যেন রাগ না করে,,তাদের যেন প্রতিদিন দেখতে যায়,,সে এখন থেকে ভালো ভাবে পড়াশোনা করবে,,]সে বার বার চটপট করছিল আর বলছিল,, আল্লাহ গো আমি কি ভাবছিলাম আমি লাফ দিলে আমার এত কষ্ট হবে!! আল্লাহ গো আমি ভুল করেছি,,আমাকে আল্লাহ মাফ করো,,আমি আর এমন ভুল করব না,,আল্লাহ আমাকে সুস্থ্য করে দাও,,আল্লাহ আমি তো আম্মুর রাগ ভাংগানোর জন্য বাসায় যেতে চাইছিলাম,,আমি তো ভাবিনি আমি এত ব্যথা পাব,,আম্মুগো আমার ভুল হয়েছে,,,তার কারোর উপর কোনো অভিযোগ ছিল না,,সে মায়ের রাগ ভাংগানোর জন্য বাসায় আসতে চেয়েছিল