চুনারুঘাটে যুবলীগ নেতা ছাড়াতে থানায় বিএনপি নেতা শামসু
চুনারুঘাটে বৈষম্যবিরোধী মামলার আসামি যুবলীগ নেতা মাজেদুর হোসেন লুবন গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে ছাড়িয়ে নিতে বিএনপির একাংশের তদবিরের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও
সাবেক মেয়র নাজিম উদ্দীন শামসুসহ কয়েকজন বিএনপি নেতা থানায় গিয়ে পুলিশের ওপর চাপ দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এলাকায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযানে পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাজেদুল হোসেন লুবনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলাসহ একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ৫৪ ধারায় চালান দেওয়ায় এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয়রা বলছেন, লুবন দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার ছত্রছায়ায় থেকে চুনারুঘাটের বালু-মাটি সিন্ডিকেটসহ নানা অনিয়মে জড়িত ছিলেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সরকারবিরোধী ছাত্রদের ওপর হামলা চালান এবং এর ফলে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। অথচ এখন বিএনপিরই কিছু নেতা তাকে ছাড়ানোর জন্য তদবির করছেন, যা তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
চুনারুঘাট উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আব্দুল মন্নান রুমন বলেন- যুবলীগ নেতা লুবন সবসময় ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। সে ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে হামলা করেছে। অথচ এখন বিএনপির কিছু নেতা তাকে ছাড়ানোর জন্য থানায় গেছেন- এটা লজ্জাজনক।
বিএনপির ভেতরেও বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। উপজেলা
বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মীর সিরাজ বলেন- আমি শুনেছি, বিএনপির দুইজন সিনিয়র নেতা থানায় গিয়ে লুবনকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। যদি বিষয়টি সত্য হয়, তাহলে এটা খুবই দুঃখজনক। আমরা এতদিন যে অত্যাচারের শিকার হয়েছি, সেই অত্যাচারীর পক্ষ নেওয়া আমাদের জন্য অপমানজনক।
তবে চুনারুঘাট উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও সাবেক মেয়র নাজিম উদ্দীন শামসু এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন- আমি থানায় গিয়েছিলাম, তবে অন্য কাজে। আমাদের প্রতিপক্ষ বিষয়টি নিয়ে মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে চুনারুঘাট থানার ওসি মো. নুর আলম বলেন- লুবন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় জামিনে ছিলেন। তাই তাকে ৫৪ ধারায় চালান দেওয়া হয়েছে। এখন আদালত চাইলে অন্য মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখাতে পারে।
তবে ওসি নাজিম উদ্দীন শামসুসহ বিএনপি নেতাদের তাকে ছাড়ানোর বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি। এ ব্যাপারে ওসি বলেন- তাদের বাড়ি যেহেতু এখানে, সেহেতু প্রায় সময়ই তারা এখানে আসেন।
সূত্র : প্রভাকর (হবিগঞ্জ)