Connect with us

দূর্নীতি

শামীমের নিয়ন্ত্রণে সিলিকা বালুর নেটওয়ার্ক

| চুনারুঘাট থেকে হবিগঞ্জ সদরের ডিপোতে আসে সিলিকা বালু

Published

on

| ছবি | আজিজুল ইসলাম শামীম এবং তার ডিপো

চুনারুঘাট উপজেলার পানছড়ি এলাকা থেকে অবাধে পাচার হচ্ছে মূল্যবান সিলিকা বালু। স্থানীয় পরিবেশ, সড়ক ও রাজস্ব ক্ষতির পরও থামছে না এসব অনিয়ম। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলায় স্থানীয় কিছু মানুষকে আসামি করা হলেও মুলহোতারা থেকে যাচ্ছেন ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। ফলে কোন ভাবেই থামানো যাচ্ছে না এই বালু লুট।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পানছড়ি এলাকায় রাতের অন্ধকারে ট্রাক্টর যোগে সিলিকা বালু পাচার করা হয় ধুলিয়াখাল এলাকার শামীম মিয়া নামে এক ব্যক্তির ডিপুতে। অনুমোদনহীন অবৈধ এই ডিপো থেকে  সারা জেলায় এসব অবৈধ বালু সাপ্লাই দিয়ে অল্পদিনে হয়ে উঠে আঙুল ফুলে কলা গাছ। বালু মহাল ও পরিবেশ আইনে অন্তত ৫ টি মামলা হলেও অজ্ঞাত কারণে আসামি করা হয়নি বালু পাচারের মাস্টারমাইন্ড শামীমকে। সিন্ডিকেটের এই মূলহোতা কে আইনের আওতায় না আনায় কোন ভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না মূল্যবান সিলিকা বালু পাচার।  

মোজাম্মেলের বালু লুট এখানো বন্ধ হয়নি


অনুসন্ধানে জানা গেছে, চুনারুঘাট উপজেলার শানখলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজ মিয়া, তার ভাই মাসুক মিয়া, আমজত উল্লাহ ও কালীনগর এলাকার শামীম মিয়ার তত্ত্বাবধানে বালু উত্তোলন করা হয়। উত্তোলিত এসব বালু ডেওয়াতলী এলাকার বিল্লাল মিয়া, শামীম মিয়া, মোজাম্মেল মিয়া, আসাদুজ্জামান ও বশির মিয়ার মাধ্যমে পাচার হয়ে যাচ্ছে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ধুলিয়াখাল এলাকার শ্রমিকদল নেতা শামীম মিয়ার মালিকানাধীনসহ কয়েকটি অবৈধ ডিপোতে।

সেখান থেকে সারা জেলা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। এ বিষয়ে একাধিক বালু পাচারকারী বলেন, আমরা পেটের দায়ে বালু বিক্রি করি। এক ট্রাক্টর বালু বিক্রি করলে আমরা ৫০০-৭০০ টাকা পাই। কিন্তু যারা ডিপু দিয়ে বালু বিক্রি করছে তারা কোটি কোটি টাকা কামাই করছে। অথচ মামলা হলে আমাদেরকে আসামি করা হয় ডিপুর মালিকদেরকে আসামি করা হয় না। অথচ মূল অপরাধী হচ্ছে তারা তারা যদি ডিপু পরিচালনা না করতো তাহলে আমরা বালু বিক্রি করতে পারতাম না ।


এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, পরিবেশ আইনে যে দুইটি মামলা হয়েছে সে মামলার অভিযোগপত্রে সকল অপরাধীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যারা বালু উত্তোলন করে, পাচার করে এবং যারা বালুর অবৈধ ডিপু দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।


স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, নিয়মিত মনিটরিং, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং অবৈধ ডিপোগুলো বন্ধ না করলে সিলিকা বালুর এ ধরনের ব্যবসা বন্ধ হবে না। স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে শ্রমিক দল নেতা এবং অবৈধ মেসার্স ইসলাম এন্টারপ্রাইজের মালিক মোঃ আজিজুল ইসলাম শামীম বলেন আমি কোন সিলিকা বালু বিক্রি করি না, আমি খোয়াই নদীর বালু বিক্রি করি, যারা অবৈধ ভাবে বালু বিক্রি করে তাদের নামে আমি তালিকা তৈরি করে দিয়েছি ইউএনও অফিসে।


এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দীপ তালুকদারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Exit mobile version