স্টাফ রিপোর্টারঃ সিলেট বন বিভাগের শায়েস্তাগঞ্জ রেঞ্জে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে প্রশাসনের নাকের ডগায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অবৈধ করাতকল। যত্রতত্র লাইসেন্সবিহীন করাতকল গড়ে উঠায় একদিকে যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। অপর দিকে বনের গাছ কেটে সাবাড় করায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ।
অভিযোগ রয়েছে, মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করে অবৈধ করাতকল স্থাপনের মৌখিক অনুমতি দিচ্ছেন শায়েস্তাগঞ্জ রেঞ্জ কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী। এসব অবৈধ করাতকলে বন থেকে চুরি হওয়া গাছ চিড়াই করে পাচার করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এছাড়াও শায়েস্তাগঞ্জ রেঞ্জের অধীনে থাকা ৮৯ টি অবৈধ করাতকল মালিকদের কাছ থেকে মাসিক উৎকোচ আদায় করে থাকেন তিনি। এতে লাভবান হয় ওই কর্মকর্তা ও মিল মালিকরা। অপরদিকে সরকারের রাজস্ব তহবিলের খাতা শূন্য থাকার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রাকৃতিক বন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী শায়েস্তাগঞ্জ রেঞ্জের দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৭ মাসে নতুন করে অন্তত ২০ টি অবৈধ করাতকল স্থাপন করা হয়েছে। এর মাঝে তার নিজ উপজেলা বাহুবলেই হয়েছে ১১ টি। যার প্রত্যেকটি থেকে ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহন করে মৌখিক অনুমতি দিয়েছেন। এছাড়াও গত মাসে বাহুবল উপজেলার চলিতাতলা বাজারে শফিক মিয়া, ফায়ার সার্ভিস এলাকায়
আতাউর রহমান, স্নানঘাট এলাকায় সংকর দাস ও আদিত্যপাশা এলাকায় আওলাদ আলী নামে ৪ ব্যক্তি নতুন করাতকল স্থাপন করেছেন। যাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে রেঞ্জ কর্মকর্তা ৫০ হাজার টাকা করে উৎকোচ গ্রহণ করে মৌখিক অনুমতি দিয়েছেন।
করাতকল স্থাপন আইন অনুসারে সংরক্ষিত বনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপনের বিধান না থাকা সত্ত্বেও তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী উৎকোচ গ্রহণ করে সংরক্ষিত বনের কাছে করাতকল স্থাপনের সুযোগ করে দিচ্ছেন। এতেকরে চোরাকারবারিরা ওই কর্মকর্তার সাথে সিন্ডিকেট করে সহজেই বন থেকে গাছ পাচার করে এসব করাতকলে বিক্রি করছেন। তোফায়েল আহমেদ চৌধুরীর বাড়ি বাহুবল উপজেলাতে হওয়ায় তিনি স্থানীয় প্রভাব দেখিয়ে অবাধে অবৈধ করাতকল স্থাপন ও পুটিজুড়ি সহ আশপাশ এলাকার গাছ পাচারের মত কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছেন। তার নিজ উপজেলা বাহুবলে সর্বাধিক ৩৩ টি অবৈধ করাতকল রয়েছে যার প্রত্যেকটি থেকে তিনি মোটা অংকের মাসোয়ারা নিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাহুবল উপজেলার একাধিক করাতকলের মালিক বলেন, আমাদের করাতকলটি সংরক্ষিত বনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে হওয়ায় আমাদের লাইসেন্স পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। তাই রেঞ্জ কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে চলতে হয়। তাদের চাহিদা মত টাকা দিতে হয় না হলে যে কোন সময় উচ্ছেদ করে দিবেন বলে হুমকি দেন।
এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ রেঞ্জ কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ৫ আগষ্ট ২০২৪ এর পর থেকে অদ্যাবধি কয়েকটি উপজেলায় কয়েকটি স’মিল বসেছে। আমরা পর্যায়ক্রমে মোবাইল কোর্ট এর মাধ্যমে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করেছি। গত জুলাই ২৫ তারিখে বাহুবলে দুইটি করাতকল উচ্ছেদ করা হয়। এ ধারা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।