দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে হবিগঞ্জের অধিকাংশ নদনদী। এক সময়ের শান্ত ও স্বচ্ছ নীল জলরাশির সুতাং নদী এখন মৃতপ্রায়। কিছুদিন আগেও নদীতীরে গড়ে ওঠা হাটবাজার ও গ্রামের লোকজন এখানে নিয়মিত গোসল ও গৃহস্থালি কাজকর্ম করতেন। কিন্তু শিল্পবর্জ্যে পানি দূষিত হওয়ায় এখন তা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
শায়েস্তাগঞ্জে আলিপুরে গড়ে উঠা, প্রাণ, আরএফএল, স্কায়র ডেমিন, চরকা টেক্সটাইলসহ আরো বিভিন্ন শিল্প কারখানার দূষণে অস্তিত্ব সংকটের পথে সুতাং নদী। পানি পরিশোধ না করে সরাসরি কালো দুর্গন্ধযুক্ত পানি শৈলজুড়া খালে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে, শৈলজুড়া খাল হয়ে সরাসরি সুতাং নদীতে হাজার হাজার গ্যালন পানি প্রতিদিন সুতাং নদীতে আসছে। কোম্পানি গুলোর নিজস্ব ইটিপি ব্যবস্হা থাকলেও এইসব নামে মাত্র ব্যবহার কারা হয়। জনপ্রতিনিধিদের টাকা দিয়ে সরাসরি কালো পানি সুতাং নদীতে ফেলা হয়।
২০১৪ সালে কৃষিকাজের জন্য সেচ ব্যবস্থার নামে শৈলজুড়া খালকে সাংসদ সদস্য আবু জাহিরের নির্দেশে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোঃ জয়নাল আবেদীন পুনঃখনন করে প্রাণ-আরএফএল ও স্কয়ার কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত করে দিয়ে ছিলেন। তখন থেকেই শুরু হইছিল রাজিউড়া, লাখাই ইউনিয়নবাসীর সীমাহীন দুর্ভোগ।
পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে প্রাণ, আরএফএল এবং স্কয়ার কোম্পানির ময়লা আবর্জনা ও ফ্যাক্টরির বর্জ্যে ভরাট হয়ে গিয়েছিল শৈলজুড়া খালটি। ২০২৩ সালে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহানের দীর্ঘ সাত কিলোমিটার খালটি খননের উদ্যোগ নিয়ে খনন করা হয় যার পুরো টাকা ছিল প্রাণ এবং স্কয়ার কোম্পানির।
সুতাং নদীর কালো পানির বাণিজ্যের সাথে জরিত হবিগঞ্জ ৩ আসনের সাংসদ সদস্য আবু জাহির, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান, আব্দুর রশিদ তালুকদার ইকবাল, লাখাই উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট মোঃ মুশফিউল আলম আজাদ, ব্রাহ্মণডোরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হোসাইন মোহাম্মদ আদিল জজ, রাজিউড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বদরুল করিম দুলাল। জরিত আছে হবিগঞ্জ জেলা এবং শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকরা।
নদীর কালো পানির বাণিজ্য নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রাণ কোম্পানির এক কর্মকর্তা বলেন, কলো পানির গতিপথে যেন কোন বাধা সৃষ্টি না হয় সে জন্য শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল, ব্রাহ্মণডোরা ইউপি চেয়ারম্যান জজ এবং রাজিউড়া ইউপি চেয়ারম্যান বদরুল করিম দুলালের মাধ্যমে নগদ ৪০ থেকে ৪৫ লক্ষ টাকা প্রতি দুইমাস পর পর চাঁদা দেওয়া হতো। এই টাকা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এমপি জাহির সহ সকলের মধ্যে বন্টন করা হতো।
তিনি আরো বলেন ইটিপি চালিয়ে পানি পরিশোধ করতে দৈনিক ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা খরচ হয়। কোম্পানি এতো টাক খরচ না করে সরাসরি কলো পানি নদীতে ছেড়ে দেয়া। এবং এলাকাবাসীর মামলা, আন্দোলন থেকে বাঁচতে জনপ্রতিনিধিদের এই টাকা দেয়া হতো।
এ বিষয়ে পরিচয় গোপন রেখে স্কয়ার কোম্পানির এক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমারা এখনে জিন্স ফেব্রিক তৈরী হয়। এই ফব্রিক তৈরী করতে বিভিন্ন ধরনের ক্যামিকেল ব্যবহার কারতে হয়, ফেব্রিক ওয়াস করার পরে গন্ধ যুক্ত কালো পানি বের হয় যা নিয়মিত পরিশোধ করতে অনেক টাকার প্রয়োজন।
শৈলজুড়া খালে পানি পরিশোধ না করেই ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমারা তো জনপ্রতিনিধিদের মোটা অংকে টাকা দিয়ে থাকি আমাদের কী সমস্যা হবে।
সুতাং নদী পারের বাসিন্দা মুদ্দত হাসান বলেন আমরা ভয়ে কোন আন্দোলন করতে পারিনা আন্দোলন করার চেষ্টা করলে পুলিশ প্রশাসন দিয়ে আমাদের ভয় দেখানো হয়।
এ বিষয়ে আরেকজন জানান এই সুতাং নদীর মাছ বিক্রি করে একসয় অনেক পরিবার চলতো , আমার সাধারণ জনগণ আমরা পুলিশ, প্রশাসনের ভয়ে কিছু বলতে পারিনা, আমাদের দুর্ভোগ তো আর জনপ্রতিনিধিরা বুঝবে না তারা সবাই টাকা ইনকামে ব্যাস্ত।
নদী দূষণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মোঃ ফরিদুর রহমান এর সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে ওনার নাম্বার বিজি পাওয়া যায় এবং হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিলে তিনি কোন রেসপন্স করেন নি।
এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধি দের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে সবার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়, সরকার পতনের পর থেকে সকলেই পলাতক রয়েছেন।