Connect with us

মিরর বিশেষ

আজ লাখাই মুক্ত দিবস

Published

on

১৯৭১ সালের ৭ই ডিসেম্বর দিনটি হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার জন্য এক অবিস্মরণীয় দিন। দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রাম শেষে এই দিন পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী এবং তাদের স্থানীয় সহযোগীদের কবল থেকে লাখাই থানা সম্পূর্ণ মুক্ত হয়েছিল।


স্বাধীনতার ডাক:১৯৭১ সালের মার্চ মাসে এক ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে স্বাধীনতার যে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, তার পর থেকেই লাখাইয়ের জনগণ স্বাধীনতার পক্ষে প্রস্তুত হতে শুরু করে।
২৫শে মার্চ দখলদার বাহিনী সারাদেশে যে গণহত্যা শুরু করে, তার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় লাখাইয়ের ছাত্র-জনতাও নিজেদের সংগঠিত করে।


স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী এবং তৎকালীন জন-প্রতিনিধি-এর আহ্বানে এলাকার ছাত্র ও যুবকরা মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের জন্য ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী লাখাইয়ের সাবেক টিটি অ্যান্ড ডিসিতে তাদের অস্থায়ী ঘাঁটি তৈরি করে। এই ক্যাম্প থেকে তাদের সহযোগী রাজাকার, আল-বদর ও শান্তিকমিটির সদস্যরা গ্রামের পর গ্রাম ধরে নির্বিচারে গণহত্যা, লুণ্ঠন ও অত্যাচার চালাত। এর সবচেয়ে ভয়াবহ উদাহরণ হলো কৃষ্ণপুর গণহত্যা (১৮ই সেপ্টেম্বর), যেখানে শতাধিক নিরীহ মানুষ শহীদ হয়েছিলেন।

স্থানীয় বীর যোদ্ধাদের দুটি প্রধান দল তৈরি হয়েছিল। একজন কমান্ডারের নেতৃত্বে একটি দল উপজেলার পূর্বাঞ্চলে (বুল্লাবাজার) ক্যাম্প স্থাপন করে। অন্য একজন কমান্ডারের নেতৃত্বে আরেকটি দল পশ্চিমাঞ্চলে (জিরুন্ডা গ্রাম) অবস্থান নেয়।

ডিসেম্বরের শুরুতেই বাংলাদেশের বিভিন্ন রণাঙ্গনে মুক্তিসেনারা বিজয়ী হতে থাকায় পাকিস্তানি বাহিনী পিছু হটতে শুরু করে। এই সময়ে লাখাই থানা থেকে খবর আসে যে স্থানীয় পুলিশ এবং রাজাকাররা আর যুদ্ধ করবে না, বরং তারা আত্মসমর্পণে আগ্রহী।

নির্ধারিত দিনে ১৯৭১ সালের ৭ই ডিসেম্বর বিকেল ৩টার দিকে লাখাই থানা পুলিশ এবং তাদের সহযোগী রাজাকার বাহিনীর ১২৯ জন সদস্য পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ডারের নিকট জিরুন্ডা খেলার মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে।


আত্মসমর্পণের পরপরই সেই কমান্ডার ‘বিজয়ের ধ্বনি তুলে জিরুন্ডা মাঠেই স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা সগৌরবে উত্তোলন করেন। একই সঙ্গে বুল্লাবাজারের ক্যাম্পেও বিজয় পতাকা ওড়ানো হয়।

এভাবেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও বিপুল আত্মত্যাগের পর ৭ই ডিসেম্বর লাখাই সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হয়। প্রতি বছর এই দিনটিকে এখানকার জনগণ মুক্ত দিবস হিসেবে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে।

স্বত্ব © ২০২৬ বাংলা মিরর | সম্পাদক : মোঃ খায়রুল ইসলাম সাব্বির