পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে দরিদ্রদের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ কর্মসূচি নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করে দিয়েছে হবিগঞ্জ পৌরসভা। ফলে ভিজিএফ কার্ড পেলেও চাল পাননি অনেক দরিদ্র নারী-পুরুষ। বৃষ্টিতে ভিজে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁরা বাড়ি ফিরেন।
বঞ্চিতদের প্রশ্ন- পৌরসভা যদি চালই না দিবে। তবে কার্ড দিয়ে কেন বৃষ্টির মধ্যে আমাদের কষ্ট দিল? এ ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য- যেসব কার্ডধারী ফেরৎ গিয়েছেন তাদের আর চাল দেওয়ার সুযোগ নেই।
জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে হবিগঞ্জ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ করেছে হবিগঞ্জ পৌরসভা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৭নং ওয়ার্ডের কার্ডধারীদের মধ্যে শিরিষতলায় চাল বিতরণের কথা।
কিন্তু পৌরসভার কর্মীরা তা না করে বৃষ্টির অযুহাতে বেলা ১২টায় চাল বিতরণ শুরু করে ৩টার মধ্যেই শেষ করে দেয়। পরবর্তীতে বৃষ্টি কিছুটা কমলে
চাল পাননি। কারণ ততক্ষণে পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারীরা সবকিছু গুটিয়ে চলে গেছেন। সরেজমিনে গেলে ৩৩৯০ ও ৩৩১০ নম্বর কার্ডপ্রাপ্ত দুই নারী এবং ৩৪৭১ নম্বর কার্ডপ্রাপ্ত এক পুরুষকে কাঁদতে দেখা যায়। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তাঁরা বলেন, পৌরসভা যদি চালই না দিবে; তবে কার্ড দিয়ে কেন বৃষ্টির মধ্যে আমাদের কষ্ট দিল?
এ ব্যাপারে কথা হলে হবিগঞ্জ পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ ইকবাল বলেন, ‘কি জন্য এমনটি হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে। ফেরৎ যাওয়া কার্ডধারীরা আর চাল পাবেন না। তবে তারা পৌরসভায় যোগাযোগ করলে অন্যভাবে সহায়তা করা যেতে পারে।’ বঞ্চিতরা যেহেতু কার্ড পেয়েছেন তাহলে অবশ্যই তাঁদের জন্য চাল বরাদ্দ ছিল।
এসব চাল কি হয়েছে জানতে পরবর্তীতে তাঁর মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বন্ধ পাওয়া গেছে। পৌর প্রশাসক অমিত চক্রবর্তীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।