Connect with us

জাতীয়

৫৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে না ফেরার দেশে গুলিবিদ্ধ কারিমুল

Published

on

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ৫আগস্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আহত কারিমুল ইসলাম (২২) নামে এক যুবক ৫৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে মারা গেছেন। সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬ ঘটিকায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুরাতন বার্ন ইউনিটের আইসিইউ’তে মারা যান তিনি। নিহত কারিমুলের বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার রুহিতনশী গ্রামে। তবে স্ত্রী ময়না আক্তারকে নিয়ে যাত্রাবাড়ী কুতুবখালী এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারে লেবুর আড়তে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন কারিমুল।

সুত্রে জানাযায়, নিহত কারিমুলের মরদেহ  ময়নাতদন্ত শেষে বিকাল সাড়ে ৫টায় ঢাকা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে নেয়া হয়, এসময় শেষ বারের মতো দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসেন স্বজনরা। পরে বাদ মাগরিব বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কারিমুলের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করে আইএবি এর মহাসচিব হাফেজ ইউনুস আহমেদ, জানাজা শেষে কারিমুলের লাশ দাফনের জন্য তার গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে এ্যাম্বুলেন্স যোগে নিয়ে যান তার স্বজনরা। মঙ্গলবার (১অক্টোবর) সকাল ৮ ঘটিকায় তার গ্রামের বাড়ি রহিতনসী ঈদগাঁ মাঠে ২য় নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে । 

কারিমুলের খালু আজিজুল ইসলাম জানান, ৫ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে কয়েকজন ছাত্র তাকে ফোন দিয়ে জানান কারিমুল যাত্রাবাড়ী থানার সামনে পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছে। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে তারা ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে গিয়ে কারিমুলকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখতে পান। এরপর থেকে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছিল।

তিনি আরও জানান, কারিমুলের বুকে, থুতনিতে এবং ডান হাতে গুলি লেগেছিল। কয়েক দফায় তার অস্ত্রোপাচারও সম্পূর্ণ হয়েছিল। তবে বুকের গুলিটি বের করা সম্ভব হয়নি। গত ১০-১২ দিন ধরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরবর্তীতে আইসিইউতে নেওয়া হয় তাকে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে মারা গেছেন তিনি।

কারিমুলের বন্ধু নুর উদ্দিন বলেন, এইদিন সকাল থেকে তারা যাত্রাবাড়ী এলাকায় আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। দুপুরের পর যখন যাত্রাবাড়ী থানা চারদিক থেকে আন্দোলনরতরা ঘিরে ফেলে তখনও একসাথেই ছিলেন কারিমুল ও নুর উদ্দিন। হঠাৎ থানার ভেতর থেকে সব পুলিশ সদস্য একযোগে বের হয়ে ফ্লাইওভারের নিচে থাকা অসংখ্য আন্দোলনকারীদের ওপর নির্মমভাবে গুলি চালাতে থাকে। তখন নুর উদ্দিন কাজলার দিকে দৌঁড় দেন আর কারিমুল দৌঁড় দেন যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার দিকে। এরপরে মূলত দুজন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। কয়েক ঘণ্টা পর খবর পান, কারিমুল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তিনি জানান, পরবর্তীতে ঘটনাস্থলের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, যাত্রাবাড়ী থানার পাশে ফ্লাইওভারের নিচে অসংখ্য লোক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। সেখানেই পড়েছিল কারিমুলও। ভিডিওতে দেখা যায় কয়েকজন মিলে সেখান থেকে একটি ভ্যানে তোলা হচ্ছে কারিমুলকে। পরবর্তীতে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তখনও ছটফট করছিলেন তিনি।

কারিমুলের ছোট ভাই মো. সুলতান জানান, ৪ ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় কারিমুল। ১ বছর আগে বিয়ে করেছেন তিনি। তার স্ত্রী ময়না ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। কারিমুলসহ এই পর্যন্ত লাখাই উপজেলার ৪জন তরুণ বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে নিহত হয়েছেন।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version