কে এই প্রতারক আবুল কাসেম

  • বাংলা মিরর ডেস্ক
  • ০৪,ফেব্রুয়ারি,২০২৩ ০৮:৪৮ PM

ব্যাংক করার কথা বলে অনলাইন বেঁচা বিক্রির প্রতিষ্ঠান আলিশা মার্ট থেকে একশ কোটি টাকা নেন বাতিল হয়ে যাওয়া পিপলস ব্যাংকের কথিত প্রধান উদ্যোক্তা আবুল কাশেম।  শুধু আলিশা মার্ট নয় তার এই ফাঁদ পা দিয়েছিলেন আরো অনেক বড় বড় উদ্যোক্তা, জানিয়েছেন বিশস্ত সূত্র। 

নতুন ব্যাংক করতে ৪০০ কোটি টাকা মূলধন দরকার।  মূলধন সংগ্রহ করতে নানামুখী তৎপরতা শুরু করেন আবুল কাশেম। তার ফাঁদে পা দিয়ে উদ্যোক্তা হিসাবে যুক্ত হয় অনলাইন প্রতিষ্ঠান আলিশা মার্ট, মেঘনা ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আলিম, খান ব্রাদার্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তোফায়েল কবির খান, তমা কনস্ট্রাশনের পরিচালক মুকিতুর রহমান, কার সিলেকশনের কর্ণধার আসলাম সেরনিয়াবাত এবং জাকির হোসেন পাটোয়ারী, সামিহা আজিম, তাসলিমা ইসলামসহ বাংলাদেশি ও প্রবাসী বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী। 

যদিও আবুল কাশেমের আর্থিক টানাটানি ও টালবাহানা টের পেয়ে এদের কয়েকজন এক পর্যায়ে সরে পড়েন। 

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আবুল কাশেমের বাড়ি সন্দ্বীপে। চট্টগ্রামের হালিশহরেও রয়েছে তার বাড়ি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসবাস করেন। সেখানে কার সার্ভিসিং ও পুরোনো বাড়ি সংস্কার কাজের ব্যবসা রয়েছে তার। পাশাপাশি তিনি নিজেকে নিউইয়র্ক আওয়ামী লীগের নেতা হিসাবে পরিচয় দেন।


সেই সুবাদে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রভাবশালী একজন মন্ত্রীর সঙ্গে তার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা হয়। ওই মন্ত্রীর আশীর্বাদে ব্যাংকের মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। প্রথম দফায় ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় দফার চেষ্টায় প্রাথমিক সম্মতিপত্র বাগিয়ে নেন। এরপর রাজধানীর অভিজাতপাড়া হিসাবে পরিচিত বনানীতে ব্যাংকের অফিস খুলে ঘুরতে থাকেন বড় ব্যবসায়ী, শিল্পপতিদের দ্বারে দ্বারে। পরিচালক করার কথা বলে ফাঁদ পাতেন।

বাতিল হওয়া পিপলস ব্যাংকের আবেদন নথিতে আবুল কাশেম নিজেকে ২৩৬ ইস্ট সেকেন্ড স্ট্রিট ব্রুকলীন, নিউইয়র্কের বাসিন্দা ও একজন ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচয় দেন। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম কাশেম কনট্রাকটিং ইনক। সেখানে তার রিয়েল এস্টেট ব্যবসা আছে বলেও দাবি করা হয়। ১৫ বছর ধরে সেখানে তিনি ব্যবসা করেন। ২০১৮ সালের ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত সেখানে তার ৫১ লাখ ২২ হাজার মিলিয়ন ডলারের সম্পদের তথ্য তুলে ধরা হয় আবেদনে।

এর মধ্যে ব্যাংকে নগদ ৬২ হাজার ১৫০ ডলার, লাইফ ইনস্যুরেন্স পলিসি ১১ হাজার ৩২২ ডলার, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় বিনিয়োগ ২১ লাখ ৬২ হাজার ডলারসহ বিভিন্ন খাতের ৫১ লাখ ৩৯ হাজার ১৬ ডলারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেওয়া হয়। বিপরীতে সেখানে ব্যাংকে তার দেনা দেখানো হয় ৫ হাজার ১২২ ডলার।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রকৃতপক্ষে আমেরিকায় তার এত বিপুল পরিমাণ সম্পদ নেই। তার এই সম্পদ বিবরণীর নথিপত্র মিথ্যা তথ্য দিয়ে তৈরি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। এ কারণে লেটার অব ইনটেন্টের ৩ নম্বর শর্ত গত দুই বছরেও পূরণ করতে পারেননি আবুল কাশেম। ৩ নম্বর শর্তে বলা আছে, ব্যাংকের প্রস্তাবিত চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের বাংলাদেশি নেটওয়ার্থের ৫৬ লাখ টাকা বাদে অবশিষ্ট প্রয়োজনীয় অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে তার নেটওয়ার্থ হিসাবে প্রদর্শিত সম্পদ থেকে অর্জিত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে আনতে হবে।

নিউইয়র্কের ‘পুরোনো বাংলাদেশি কমিউনিটির একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আবুল কাশেমের পক্ষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই শর্ত পূরণ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কারণ ব্যাংকে তিনি যে সম্পদের হিসাব জমা দিয়েছেন তার বেশির ভাগই মিথ্যা। এখন নিউইয়র্কে তার ব্যবসা বলতে কিছুই নেই। রিয়েল এস্টেট ব্যবসা দূরের কথা, তার নতুন বিল্ডিং বানানোর কোনো লাইসেন্সও নেই। পুরোনো ভবন রেন্যুভেশনের একটি লাইসেন্স থাকলেও নেই কাজকর্ম। ব্রুকলিনে একটি বাড়ি আছে। বাড়িটি তার ও স্ত্রীর যৌথ নামে। বাড়ি কেনার বিপরীতে ব্যাংক লোনও আছে। তিনি এখন ‘বিগ ফিস’র পেছনে দৌড়াচ্ছেন। তার সঙ্গে কেউ যৌথ বিনিয়োগে গেলে নির্ঘাত প্রতারিত হবেন।

নতুন ব্যাংক করতে ৪০০ কোটি টাকা মূলধন দরকার।  মূলধন সংগ্রহ করতে নানামুখী তৎপরতা শুরু করেন আবুল কাশেম। তার ফাঁদে পা দিয়ে উদ্যোক্তা হিসাবে যুক্ত হয় অনলাইন প্রতিষ্ঠান আলিশা মার্ট, মেঘনা ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আলিম, খান ব্রাদার্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তোফায়েল কবির খান, তমা কনস্ট্রাশনের পরিচালক মুকিতুর রহমান, কার সিলেকশনের কর্ণধার আসলাম সেরনিয়াবাত এবং জাকির হোসেন পাটোয়ারী, সামিহা আজিম, তাসলিমা ইসলামসহ বাংলাদেশি ও প্রবাসী বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী।

যদিও আবুল কাশেমের আর্থিক টানাটানি ও টালবাহানা টের পেয়ে এদের কয়েকজন এক পর্যায়ে সরে পড়েন। 

সম্পর্কিত খবর

কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি