গনতন্ত্র ও গণমাধ্যম : কে কাকে রক্ষা করবে?

  • বায়েজিদ খান
  • ১৪,জানুয়ারী,২০২২ ০৪:৩৫ PM

গনমাধ্যম ও গনতন্ত্র বিষয়ে প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন, "রাষ্ট্রে গণমাধ্যম স্বাধীন হলে এমনকি দুর্ভিক্ষও ঠেকিয়ে দেওয়া যায়। অজ্ঞতা ও ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি না করে জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞাত হয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে পারে, সচেতন ভোটাররা তখন খারাপ শাসককে ক্ষমতা থেকে ফেলে দিতে পারে। আবার গণমাধ্যমের সঠিক চর্চা রাষ্ট্র ও জনসাধারণের মাঝে সেতু তৈরি করে"। 

গনতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসাবে সারা দুনিয়ায় গণমাধ্যম বিবেচিত হয়।জনসাধারন থেকে সমাজের সকল স্তরে গনমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম ,যা দেশ গঠনে ,গনতন্ত্রের বিকাশে  মুখ্য ভূমিকা পালন করে। গণমাধ্যমের সঠিক চর্চা যেমন গণতন্ত্র রক্ষা করতে পারে, তেমনি প্রকৃত গণতন্ত্র পারে গণমাধ্যমকে স্বাধীন রাখতে।  

ক্ষমতা কাঠামোর বিরুদ্ধে দাড়িয়ে , প্রকৃত সত্য উদঘাটন করাই মিডিয়ার কাজ । কিন্তু আমাদের অধিকাংশ মিডিয়ার মালিকই ক্ষমতাসীন দলের সাথে ওতোপ্রোতো জড়িত টাকার ফলে স্বাধীন  সাংবাদিকতার পথ এখানে রুদ্ধ । কোন নতুন ইস্যুর আবির্ভাব হলেই আমরা দেখতে পারি যে যার এজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রিয় সাংবাদিকতার সকল নৈতিকতাকে পদদলিত করে । 

ক্ষমতাসীন দলের তোষামোদি করাই যেন  তাদের প্রধান কাজ। ভারতে এনডিটিভির প্রখ্যাত সাংবাদিক  সাংবাদিক রভিস কুমার ,ভারতের সরকারের মদদপুষ্ট মিডিয়ার নাম দিয়েছেন গদি মিডিয়া । 

এই হলুদ সাংবাদিকাতা সবার জন্য ক্ষতিকর,রাষ্ট্র ,সরকার,রাজনেতিক দল,সমাজ ,বিশেষ করে গনতন্ত্র। মিডিয়ার দৈন্যদশার কারনে মানুষ এখন সোশ্যাল মিডিয়ার দিকে ঝুকছে। 

সাম্প্রতিক সময়ে,কে মদ নিয়ে ধরা খেয়েছে,কোন সেলিব্রেটি কয়টা বিয়ে করলো,এসব বিষয় নিয়ে যেভাবে রঙ মিশিয়ে মিডিয়ার পাতায় পাতায় খবর ছাপানো হয়েছে তাতে আমারা ভুলেই গেছি করোনায় কত মানুষের চাকরি গেছে, বিষন্নতায় কত মানুষ  সুইসাইড করেছে, করোনায় কত শিক্ষার্থী ঝড়ে পরেছে, এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার কোন রোডম্যাপ নাই,কত মানুষ করোনায় কাজের অভাবে ঢাকা ছেড়েছে  তার কোন আলোচনা নাই , হাসপাতালে আইসিইউ নাই, চারিদিকে শুধু নাই আর নাই তারপরও মিডিয়ার কোন দায় নেই এসব নিয়ে প্রশ্ন করার রাষ্ট্র কে !তারা চায় আপনি সেলিব্রেটিদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বুদ হয়ে থাকুন, নিজেদের অধিকারের খবর ভুলে! 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন গণতন্ত্রের একটি জনপ্রিয় সংজ্ঞা দিয়েছেন। তার মতে, জনসাধারণের জন্য, জনসাধারণের দ্বারা পরিচালিত এবং জনসাধারণের সরকারই হল গণতন্ত্র। আর গণমাধ্যমের কাজ হলো এই জনগণের বার্তা নিরপেক্ষ ও নির্ভুলভাবে সরকারের কাছে তুলে ধরা। একটি দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আছে কি নেই এবং নাগরিকের চিন্তার স্বাধীনতার আছে কি নেই, তা দিয়ে সহজেই গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি পরিমাপ করা সম্ভব। 

গণমাধ্যম ও গনতন্ত্র একে অন্যের পরিপূরক তাই এদের স্বাধীন বিকাশ সবার জন্যই মঙ্গলজনক।

সম্পর্কিত খবর

কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি