ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বের দৌড়ে আলোচনায় যারা

  • বুরহান উদ্দিন ফরহাদ
  • ০৩,ফেব্রুয়ারি,২০২৩ ১১:১৮ PM

ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ৬ ডিসেম্বর। এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে শীর্ষ দুই নেতৃত্বে আসতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন সংগঠনটির শতাধিক নেতাকর্মী। তারা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কাছে ধরণা দিচ্ছেন। যোগাযোগ করছেন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সাথে। সম্মেলন যতই কাছে আসছে ততোই বিভিন্নভাবে লবিং-তদবিরে ব্যস্ত আছেন তারা।
 
এদিকে, পদপ্রত্যাশীদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করেছেন আবার অনেকেই বিভিন্ন দুর্যোগ এবং মহামারিতে সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এর বাইরেও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ব্যতিক্রমধর্মী কর্মকাণ্ডেও জড়িত ছিলেন। ছাত্রলীগের দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আসছে ছাত্রলীগের কমিটিতে যারা ত্যাগী এবং বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থী এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছেন তাদেরকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। এরমধ্যে যারা আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান এবং বিতর্কমুক্ত তাদেরকেই বেছে নেওয়া হবে।
 
এদিকে ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই পদে লড়তে পদপ্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে রাজনীতির আঁতুড়ঘর খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে অবস্থান ও আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে পদচারণার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কথা বলে নিজেদেরকে জাহির করার চেষ্টা করছেন। তারা আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করাতে বিগত দিনে যার যার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বরূপও তুলে ধরছেন সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন স্তরে।
 
এদিকে, প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। সেখানেই তিনি প্রার্থীদের বয়সের ব্যাপারটি জানাবেন। 

ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব জানায়, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্রলীগের বয়সসীমা অনুর্ধ্ব ২৭ বছর। বিগত তিন কমিটির সম্মেলনে প্রার্থীদের বয়স অনুর্ধ্ব ২৯ বছর করা হয়। যেহেতু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কোন সেশনজট নেই এবং যথাযথ সময়ের মধ্যেই সবাই শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারছেন, এজন্য বয়স অনুর্ধ্ব ২৯ বছরই হবে। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী বয়সের ব্যাপারটি বিবেচনা করবেন সেক্ষেত্রে এর বাইরে না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকবে। এটি সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই হবে।
 
অন্যদিকে, বিগত কয়েকটি কমিটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পরিচয় বিবেচনা করে দেখা যায়, বেশিরভাগ কমিটিতে মাদারীপুর, বরিশাল এবং খুলনা অঞ্চল প্রাধান্য পেয়েছে। তবে, এবারও সেই সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা। তবে, যোগ্যতা বিবেচনায় অন্য অঞ্চলের প্রার্থীদেরও প্রাধান্য দেওয়া হবে। এর বাইরে প্রার্থী বিবেচনায় উত্তরবঙ্গ, চট্টগ্রাম এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলেরও প্রাধান্য থাকবে।
 
সেই হিসেবে এবারের সম্মেলনে বরিশাল অঞ্চল থেকে আলোচনায় আছেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ (ইনান), উপ-বিজ্ঞান সম্পাদক সবুর খান কলিন্স, কর্মসংস্থান বিষয়ক উপ-সম্পাদক খাদিমুল বাশার জয় এবং গণশিক্ষা বিষয়ক উপ সম্পাদক সোলাইমান ইসলাম মুন্না, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সম্পাদক ইমরান জমাদ্দার। এছাড়াও রয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আল ইমরান। যদিও তার বয়স ৩০ উর্ধ্ব।
 
ফরিদপুর অঞ্চল থেকে আলোচনায় আছেন আইন বিষয়ক সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন শাহাদাত, কর্মসংস্থান সম্পাদক রনি মুহাম্মদ এবং প্রশিক্ষণ বিষয়ক উপ সম্পাদক মেশকাত হোসেন।  এছাড়া, বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার জামি উস সানী, সহ-সভাপতি রাকিব হোসেন আলোচনায় আছেন।
 
এবার চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে নেতৃত্ব পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী। তিনি করোনা মহামারির সময় থেকে শুরু করে এখনো পর্যন্ত অক্সিজেন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তার এই জয় বাংলা অক্সিজেন সেবা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে গর্ববোধ করেন। এছাড়া, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত করোনার সময় কঠোর লকডাউনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অসহায়দের মাঝে খাবার বিতরণ করে জাতিসংঘের রিয়েল হিরো পদে ভূষিত হন। এই অঞ্চলে আরও আলোচনায় আছেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তাহসান আহমেদ রাসেল, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ লিমন, সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম শামীম এবং উপ-সাহিত্য সম্পাদক জয়জিৎ দত্ত। যদিও রাসেল, লিমন এবং শামীম তিনজনই ৩০ উর্ধ্ব।
 
উত্তরবঙ্গ থেকে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক আল আমিন সিদ্দিকী সুজন এবং প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক হায়দার মোহাম্মদ জিতু। যদিও তাদের তিনজনের বয়সই ৩০ উর্ধ্ব। এর বাইরে রয়েছেন- উপদপ্তর সম্পাদক আহসান হাবিব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সবুজ।
 


খুলনা বিভাগ থেকে রয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বরিকুল ইসলাম বাঁধন ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক নাহিদ হাসান শাহিন, উপ বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার আহসান হাবিব।
 
ময়মনসিংহ থেকে আলোচনায় আছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপস, তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপ সম্পাদক রাশিদ শাহরিয়ার উদয় এবং সহ-সম্পাদক শাকের আহমেদ আল আমিন। যদিও মেহেদী হাসান তাপস ৩০ বছরে পদার্পন করেছেন।
 
সার্বিক বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ছাত্রলীগের নেতৃত্ব গঠনের ক্ষেত্রে যোগ্য, বিতর্কমুক্ত এবং যারা আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান তাদেরকেই বিবেচনা করা হবে। বয়সের ব্যাপারে গঠনতন্ত্রে অনুর্ধ্ব ২৭ বছর আছে। এটাকেই বিবেচনা করা হবে। তবে, এই ব্যাপারটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই সিদ্ধান্ত নেন। এবারও তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।

সম্পর্কিত খবর

ছাত্রলীগকে দোষারোপের রাজনীতি!
  • ০৪,ফেব্রুয়ারি,২০২৩ ০৯:৫৪ AM
"এক কাপ চা, একটি বই এবং এক প্রজন্ম ভালবাসা"
  • ০৩,ফেব্রুয়ারি,২০২৩ ০২:৪১ PM