পৃথিবীতে পাখিদের অস্তিত্ব সংকটাপন্ন

  • নুসরাত মালিহা
  • ২৬,জুন,২০২২ ০৮:৩৩ AM

মহান সৃষ্টিকর্তার সৃষ্ট জীববৈচিত্র্যের এক বড় অংশ হচ্ছে পাখি। এই প্রাণিকুল মানুষের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পৃথিবীর প্রায় সকল প্রজাতির পাখিই মানুষের কল্যাণে  অবদান রাখে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বিভিন্ন প্রকার মানবসৃষ্ট কারণে এই উপকারী জীব গোষ্ঠী আজ বিলুপ্তির পথে।

পৃথিবীতে সবচেয়ে ছোট পাখি মৌ হামিংবার্ড থেকে শুরু করে সবচেয়ে বড় উড়ন্ত পাখি আন্দিয়ান কনডর সহ প্রায় ১১,১৫৪ প্রজাতির পাখি রয়েছে।  পালক ও পাখবিশিষ্ট এই দ্বিপদীপ্রাণী কর্ডাটা পর্বের এবং মেরুদন্ডী উপপর্বের সদস্য। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত জীবাশ্ম নির্দেশ করে যে, পাখিদের আবির্ভাব হয়েছিল জুরাসিক যুগে, প্রায় ১৬ কোটি বছর পূর্বে।

অত্যন্ত উপকারী হলেও মানুষের নিষ্ঠুরতার কারণে বর্তমানে প্রায় বারোশ' প্রজাতির পাখি বিলুপ্তপ্রায়। প্রতিনিয়ত জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে যার দরুন মানুষের  আবাসস্থলের প্রাপ্যতার কারণে বিপুল পরিমাণে বৃক্ষনিধন করা হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে পাখিদের আবাসস্থলের সংকট দেখা দিচ্ছে।এছাড়াও প্রাণী ও একক ফসলের কৃষিক্ষেত্র সৃষ্টি, পরিবেশ দূষণ, পাখি পাচার, ডিম সংগ্রহ, পাখিদের খাদ্য উৎস হিসেবে বিবেচিত উদ্ভিদ ও প্রানী ধ্বংস এবং জলবায়ু পরিবর্তন পাখি মৃত্যুর অন্যতম কারণ।

 "ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর দ্য প্রটেকশন অব এনিমেল" এর তথ্যমতে, অতিরিক্ত শব্দদূষণ পাখি মৃত্যুর জন্য দায়ী। পাখিদের শ্রাব্যতার সীমা অনেক কম হওয়ায় অন্যান্য প্রাণী বিশেষ করে মানুষের ব্যবহৃত উচ্চ মাত্রার শব্দ পাখিদের জন্য অসহনীয়। বিশেষ করে সবুজ পরিবেশে রাস্তাঘাট নির্মান এবং যানবাহনের উচ্চ শব্দে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাখিরা। ২০০৫ সালে ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদন অনুসারে রাস্তার পাশে বসবাসকারী পাখিদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যহারে কমে যাচ্ছে।

বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নয়নে আমরা অধিক মাত্রায় বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস ডিভাইস ব্যবহার করছি। এসব ডিভাইস থেকে অতিমাত্রায় রেডিয়েশন ঘটে যা পাখিদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ফলে দিন দিন পাখিদের প্রজননের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, কমে যাচ্ছে পাখিদের আয়ু। অন্যায়ভাবে পাখি শিকার করা হচ্ছে।

মানবসৃষ্ট কারণে পক্ষীকুল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু যুগ যুগ ধরে মানুষের উপকার করে আসছে এরাই। পরিবেশের বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রাণীদের খেয়ে পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখে এই পাখিরা। একটি ছোট পাখি মিনিটে প্রায় ১২০০ পোকা খেতে পারে। ফসলের ক্ষেতে, ফুল ও ফলের বাগানে ক্ষতিকর পোকা ভক্ষণের মাধ্যমে রক্ষা করে আমাদের কৃষিজ পণ্য। এতে করে কৃষকদের জীবীকার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে পাখিরা।

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য "বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন,২০১৮" -তে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আমাদের সকলের উচিত এই জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তৎপর হওয়া। আরো বেশি সচেতন হওয়া। জীববৈচিত্র্য সুরক্ষিত থাকলে সুন্দর হবে পরিবেশ, সুরক্ষিত হবে পৃথিবী।

সম্পর্কিত খবর

পলাশে বিট পুলিশিং
  • ১৬,জুন,২০২২ ০৭:০৪ PM
রামেকে আজও ৬ জনের মৃত্যু
  • ২৫,জুন,২০২২ ০২:৩৫ AM
১৮ মাস পর খুলল বুয়েটের হল
  • ২২,জুন,২০২২ ০৭:১৯ AM
অস্ত্রসহ ৭ রোহিঙ্গা আটক
  • ২৬,জুন,২০২২ ০১:১৯ PM
এক নজরে বঙ্গবন্ধুর জীবনী
  • ২১,জুন,২০২২ ১০:৪৭ PM
৯০ ছাড়িয়েছে ডলারের দাম
  • ২১,জুন,২০২২ ১১:২৯ PM
চতুর্থ বলে নাসুমের উইকেট
  • ২২,জুন,২০২২ ০৭:৫৪ AM
গুলশানের আগুন নিয়ন্ত্রনে
  • ২০,জুন,২০২২ ০৩:০৪ PM
ডেঙ্গুতে আজও মৃত্যু ৩
  • ২৪,জুন,২০২২ ০৭:৪৩ AM
বেলারুশের উপর নিষেধাজ্ঞা
  • ২৫,জুন,২০২২ ০৯:৩২ AM
ঢাকায় মাদকদ্রব্য সহ আটক ৩৬
  • ২৩,জুন,২০২২ ০৬:৩৩ AM
ওমানে জমায়েত নিষিদ্ধ
  • ২১,জুন,২০২২ ১১:৩২ PM
ফের শাহবাগ অবরোধ
  • ২২,জুন,২০২২ ০২:৩১ PM
এশিয়ার প্রথম পানি জাদুঘর
  • ২৬,জুন,২০২২ ০৪:২৭ PM