বর্ষায় পশুপালনে নিতে হবে বাড়তি সতর্কতা

  • সানজিদা হোসেন সেতু
  • ২৩,জুন,২০২২ ০৫:২৯ AM

সময়ের পরিক্রমায় নির্দিষ্ট একটি সময় পর‌পর আমাদের প্রকৃতি ভিন্ন ভিন্ন ঋতুর সৌন্দর্যে সেজে উঠে। বাংলাদেশে ছয়টি ঋতুর মধ্যে বর্ষাকাল‌ অন্যতম।তবে পশুপালনের ক্ষেত্রে সচেষ্ট ও সচেতন না হলে বর্ষার সময়ে হতে পারে ভয়াবহ দুর্যোগ। বর্ষাকালে প্রাণিরা রোগাক্রান্ত হয় বেশি এবং রোগের প্রাদুর্ভাবও বেড়ে যায় বহুগুণে। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারার ফলে অনেক খামারীরা বিপদে পড়ে যেতে পারেন।অথচ এই বর্ষাকালীন সময়ে কিছু সচেতনতা মূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করলেই পশুকে সুস্থ সবল ও রোগমুক্ত রাখা যায়।

ছাগল পালনের ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপ:
তুলনামূলক কম রোগাক্রান্ত হওয়ায় ছাগল পালনে যেমন লাভ বেশি তেমনি ক্ষতির সম্মুখীন হবার সম্ভাবনাও কম।তবে বর্ষা মৌসুমে ছাগলের পেটে বিভিন্ন সমস্যা বিশেষ করে ডায়রিয়া প্রায়শই পরিলক্ষিত হয়।বেশিরভাগ সময় খাবার থেকে এই ডায়রিয়া হয়ে থাকে৷বৃষ্টিতে চারা বা ঘাসে থাকা কৃমি এর পিছনে অন্যতম একটি কারণ৷ তাই খাবার দেয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।প্রায় চারমাস পরপর পেটের সমস্যার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ দিতে পারেন খামারীরা। তবে প্রাকৃতিকভাবে নিমপাতার চারাও খাওয়ানো প্রয়োজন৷এসময়ে ছাগলের খাবার এবং পানীয় জলের জন্য পৃথক পরিচ্ছন্ন পাত্রের ব্যবস্থা করা‌ ভালো৷সে নিরাপদ থাকবে৷বর্ষাকাল শুরু হওয়ার আগেই ছাগলের টীকা দেওয়ার কাজটি সম্পন্ন করতে হবে।এর পাশাপাশি নিমোনিয়া যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রেখে ছাগলের থাকার স্থানটি পরিষ্কার রাখতে হবে।

গরু পালনে গৃহীত পদক্ষেপ:
বর্ষা গরু পালনে সবচেয়ে বড় সমস্যাটি দেখা যায় তা হলো গরুর খাদ্যের স্বল্পতা। তাই বর্ষা শুরুর আগেই যথেষ্ট খাদ্যের মজুদ রাখতে হবে। পাশাপাশি খামারের সব গরু ভ্যাক্সিনেশন সিডিউল মেনে ভ্যাক্সিনের আওতায় আনতে হবে।এছাড়া বর্ষার সময়ে গরুর শরীর যাতে না ভিজে যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। গরুর থাকার ঘরের চাল কিংবা বেড়া দিয়ে পানি আসলে সেগুলো মেরামত করতে হবে।গরুর থাকার স্থানের স্যাঁতস্যাঁতে ভাব দূর করার জন্য প্রয়োজনে শুকনো মাটি বা তুষ ছিটিয়ে দিতে হবে।তারপর এর উপর দিয়ে শুকনো খড় বিছিয়ে থাকার স্থান আরামদায়ক করে দিতে হবে।বর্ষার সময়ে গরুর বিভিন্ন জটিল রোগ দেখা দিতে পারে।
যথা সম্ভব পরজীবীর আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টা করতে হবে।কোয়ারেইন্টাইনের ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে করে আক্রান্ত পশুকে দ্রুত সুস্থ পশু থেকে পৃথক করে রাখা যায়।

পোল্ট্রি পালনে গৃহীত পদক্ষেপ:
বাংলাদেশে পোল্ট্রি শিল্পের সবচেয়ে ব্যবহৃত প্রজাতিটি হলো মুরগি।সঠিক ব্যবস্থাপনা পারে খামারকে রোগমুক্ত রাখতে।বাড়তি জায়গা ভালভাবে পরিস্কার এবং ঘাস ও ঝোপঝাড় মুক্ত রাখতে হবে।বাড়তি জায়গার উপরে ভালমত ছাউনি দিতে হবে।ভালভাবে আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।মুরগির বাচ্চা উঠানোর আগেই সকল পাকা মেঝে ভালোমতো মেরামত করতে হবে এবং যতদিন সম্ভব শুষ্ক রাখা যায় তার ব্যবস্থা করতে হবে।খাবারের পাত্র যাতে যথাসম্ভব শুষ্ক রাখা যায় সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে।লিটারের ক্ষেত্রে, জানালা এবং ঘরের পাশ দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢোকার সম্ভাব্য সব ছিদ্র বের করতে হবে এবং তা বন্ধ করার সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যেন লিটার শুষ্ক থাকে।শক্ত লিটার ভেঙ্গে দিয়ে নতুন লিটার ছড়িয়ে দিয়ে এবং শুষ্ক দ্রব্য যেমন: লাইম পাউডার, এমোনিয়াম সালফেট ইত্যাদি ব্যবহার করে শুষ্ক অবস্থা বজায় রাখতে হবে।আখের ছোবড়া লিটার হিসেবে ব্যবহার করলে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। অন্যথায় Aspersillus fumigatus নামক মোল্ড জন্মাতে পারে যা ফুসফুসের কোষে প্রবেশ করে এবং বাচ্চাতে ব্রুডার নিউমোনিয়া ঘটায়।পোল্ট্রি শেডের আশেপাশে যাতে বৃষ্টির পানি জমে না থাকে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রয়োজনে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।বর্ষার সময় যাতে নতুন খাদ্য কেনা না লাগে এজন্য যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্য মজুত করা উচিত।অন্যথায়,পরিবহনের সময় খাদ্য পরিবেশ হতে আর্দ্রতা শোষন করবে।যদি ঘরের ভেতরের আর্দ্রতা বেশি থাকে অথবা পানি প্রবেশ করে এবং এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকে তবে ফাংগাস এবং মোল্ডের মারাত্মক সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। এর ফলে ডিম উৎপাতন হ্রাস, বৃদ্ধি ব্যাহত, নিম্ন খাদ্যে রূপান্তর, লিভার টিউমার এমনকি লেয়ার ও ব্রয়লারের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

পানির ব্যবস্থাপনা: বর্ষাকালে পুকুর, নদী, টিউবওয়েল এমনকি ট্যাপের পানি পর্যন্ত জীবাণু দ্বারা দূষিত হয়।পানি বিশুদ্ধ করার অন্য উপায় হচ্ছে ৩৫ ভাগ ক্লোরিন যুক্ত করা যা ২ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার ১০০০ লিটার খাবার পানির সাথে মিশ্রণ করে পাওয়া যায়। এ পানি মিশ্রণের ৩ ঘণ্টা পরে প্রয়োগ করতে হবে।


লিটার ব্যবস্থাপনা: যখন পোল্ট্রিকে ডিপ লিটার পদ্ধতিতে পালন করা হয় তখন তা সবসময় শুষ্ক রাখা উচিত।সাধারণত ২৫ ভাগ আর্দ্রতা থাকে তৈরিকৃত লিটারে।লিটারের অবস্থা বোঝার জন্য একমুঠো লিটার হাতে নিয়ে হালকা চাপ দিয়ে ছেড়ে দিলে যদি লিটার বলের মত আকৃতির না হয় এবং এক সাথে পড়ে তবে বুঝতে হবে লিটারের অবস্থা ভাল।

সম্পর্কিত খবর

পুনিথ রাজকুমার মারা গেছেন
  • ০৯,জুন,২০২২ ১০:৫৬ PM
আগামী বছর ছুটি ২২ দিন
  • ১০,জুন,২০২২ ০৮:৪৯ PM
মুক্ত হলেন রুমিন ফারহানা
  • ২৪,জুন,২০২২ ০৮:২০ AM
এক নজরে বঙ্গবন্ধুর জীবনী
  • ২১,জুন,২০২২ ১০:৪৭ PM
কবি ফরিদা মজিদ মারা গেছেন
  • ২৪,জুন,২০২২ ০৯:০১ PM
ভোজ্যতেলের দাম ফের বাড়ছে
  • ১৮,জুন,২০২২ ০১:৩৮ PM
এইচএসসি পাসে সরকারি চাকরি
  • ২১,জুন,২০২২ ০১:০৪ AM
স্কুল খোলা রাখুন: ইউনিসেফ
  • ২৫,জুন,২০২২ ১১:১০ AM
পলাশে বিট পুলিশিং
  • ১৬,জুন,২০২২ ০৭:০৪ PM
মহাসড়কে বাস উল্টে নিহত ২
  • ২৬,জুন,২০২২ ০২:২৭ AM
গুলশানের আগুন নিয়ন্ত্রনে
  • ২০,জুন,২০২২ ০৩:০৪ PM
এবার চট্টগ্রামে মেট্রোরেল
  • ২৩,জুন,২০২২ ০৬:৩৮ PM